দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে একটু দূরে নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে চান অনেকেই। সবুজের প্রশান্তি, খালের স্বচ্ছ জলধারা আর খোলা আকাশের নিচে নিরিবিলি পরিবেশ—সব মিলিয়ে এমনই এক মনোরম স্থান হয়ে উঠেছে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া কানুদার খালের তীরে অবস্থিত শালিখা ইকোপার্ক।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও বিনোদনের নানা আয়োজনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা পার্কটি স্থানীয়দের অবসর বিনোদনের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদেরও আকৃষ্ট করছে। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে এখানে ছুটে আসছেন।
শালিখা ইকোপার্কে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। পার্কের এক পাশে বিস্তীর্ণ সবুজ ধানখেত, অন্য পাশে শান্তভাবে বয়ে চলেছে কানুদার খাল। সবুজ মাঠ, জলধারা ও নির্মল বাতাসের মেলবন্ধনে এখানে তৈরি হয়েছে মনোরম এক প্রাকৃতিক পরিবেশ।
খালের পানিতে ভেসে চলা নৌকা, চারপাশের সবুজ বৃক্ষরাজি আর নিরিবিলি পরিবেশ মুহূর্তেই মনকে প্রশান্ত করে তোলে। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে কিছুটা সময় প্রকৃতির সঙ্গে কাটানোর জন্য স্থানটি ধীরে ধীরে স্থানীয় মানুষের কাছে আকর্ষণীয় অবকাশকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
শুধু সৌন্দর্য নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দিক থেকেও শালিখা ইকোপার্কের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। পার্কজুড়ে বিভিন্ন ধরনের বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। এসব গাছ পার্কের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশকে করেছে আরও সবুজ ও প্রাণবন্ত।
কানুদার খাল ও এর আশপাশে খাল পুনঃখনন এবং মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বিনোদনের নানা আয়োজন। কানুদার খালে প্যাডেল বোট ও সাধারণ নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। নৌকায় বসে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখা কিংবা খালের শান্ত জলে কিছুটা সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা দর্শনার্থীদের ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়।
পার্কের ভেতরে হাঁটাচলার জন্য রয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে এখানে। দর্শনার্থীদের বিশ্রাম ও অবস্থানের জন্য রয়েছে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি কটেজ।
শিশুদের বিনোদনের কথাও রয়েছে পার্কে। ছোটদের জন্য রয়েছে দোলনা, স্লাইডসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী ও বিনোদনমূলক রাইড। ফলে পরিবারের বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও এখানে নিজেদের মতো করে আনন্দ করার সুযোগ পাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, শালিখা ইকোপার্কটি এখন মানুষের বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি বেশ সুন্দর একটি জায়গা। পার্কটির আরও উন্নয়ন ও পরিচর্যা করা হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।
পার্কে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী রবিন বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে জায়গাটি তার খুব ভালো লেগেছে। একদিকে সবুজ প্রকৃতি, অন্যদিকে খাল—দুই ধরনের সৌন্দর্যই এখানে উপভোগ করা যায়। নৌকায় ঘোরার সুযোগ থাকায় সময়টা আরও আনন্দময় হয়েছে। পরিবার নিয়েও এখানে আসা যায়।
পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা পিকনিক আয়োজন—সবকিছুর জন্যই শালিখা ইকোপার্ক হতে পারে একটি মনোরম স্থান। মাগুরার বিভিন্ন স্থান থেকে আড়পাড়া বাজারে এসে রিকশা, অটোরিকশা অথবা থ্রি-হুইলারে সহজেই পার্কে পৌঁছানো যায়।
শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, শালিখা ইকোপার্কটি প্রকৃতি ও বিনোদনের সমন্বয়ে একটি সম্ভাবনাময় স্থান। পার্কটির সৌন্দর্য ও পরিবেশ ধরে রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যটন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
প্রকৃতি মানুষকে সৌন্দর্যের পাশাপাশি দেয় প্রশান্তি ও নির্মলতার অনুভূতি। সেই প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে শালিখা ইকোপার্ক। সবুজ ধানখেত, কানুদার খালের শান্ত জলধারা, বৃক্ষরাজি, নৌভ্রমণ এবং শিশুদের বিনোদনের নানা আয়োজন—সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে অবসর বিনোদনের এক আকর্ষণীয় স্থান।
নিয়মিত পরিচর্যা ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখা গেলে শালিখা ইকোপার্ক ভবিষ্যতে মাগুরা জেলার একটি উল্লেখযোগ্য বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও পরিচিতি লাভ করতে পারে। প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্যের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে কানুদার খালের তীরে গড়ে ওঠা এই সবুজ প্রাঙ্গণ হতে পারে একটি সুন্দর গন্তব্য।
এমএস/